পায়খানা ক্লিয়ার করার সবচেয়ে সহজ উপায় - ২০২২

আমাদের মধ্যে হয়ত অনেকে পায়খানা ক্লিয়ার করার ব্যাপারি চিন্তিত। তাই আজকে সেই বিষয়ে কিছু কথা।

পায়খানা ক্লিয়ার করার সবচেয়ে সহজ উপায় 



পায়খানা ক্লিয়ার করার সবচেয়ে সহজ উপায়




খাদ্যাভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। যারা আঁশ ফাইবার বা জাতীয় খাবার ও পানি কম খায় তাদের এটা হতে পারে। যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন না বা ফিজিক্যাল একটিভিটি কম বা ব্যায়াম করেন না তাদেরও হতে পারে। কিছু বিষন্নতার ঔষধ, প্রেসারের ঔষধ এবং ব্যথানাশক ঔষধের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। বিষন্নতা জাতীয় মানসিক রোগেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।


                                  পায়খানা ক্লিয়ার করার সবচেয়ে সহজ উপায়                                                                          কিছু হরমোনঘটিত রোগ যেমন  হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম,হাইপোথাইরয়েডিজম, এবং ডায়াবেটিস থেকেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। স্ট্রোক কিংবা কিছু নার্ভের রোগ যেমন মাল্টিপল স্কেলেরসিস, পারকিনসন্স ডিজিজ  এবং মেরুদণ্ডে বড় রকম আঘাত পেলে সেখান থেকেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পায়খানার রাস্তায় কোন ধরনের ব্লক হলে সেখান থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পেটের ভিতরে কোন ক্যান্সার হলে সেখান থেকে সাধারণত এ ধরনের ব্লক হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে


কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের কয়েকটি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন চা, কফি, কোক জাতীয় ড্রিঙ্কস, চকলেট, অত্যাধিক মশলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন, ভাজা খাবার না খাওয়া ভাল। মিহি চালের ভাত, ময়দার রুটি, পরাটা, লুচি, পাউরুটি, চিড়া, মুড়ি ইত্যাদি খাবার না খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। মদজাতীয় পানীয় খাওয়া নিষেধ। ধূমপানের মাত্রা কমাতে হবে, খুব ভাল হয় একেবারে বন্ধ করলে। রেডমিট মানে খাসী বা গরুর মাংস না খাওয়া ভাল।


খাবার-দাবারে পরিবর্তন এনে, ব্যায়াম করে এবং উপরে নির্দেশিত নিয়মগুলো মেনেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য  দূর না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে ঔষধ খেতে হবে। যদি ঔষধও কাজ না করে তাহলে সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা বা টেস্ট করে দেখতে হবে।



কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের উপায়

পায়খানা ক্লিয়ার করার সবচেয়ে সহজ উপায়

বেশী পরিমাণে শাকসবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক ক্ষেত্রেই কমে যায়। তাই খাবার মেন্যুতে যতটা সম্ভব শাক সবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতি ১০০০ কিলোক্যলরি খাবারে ১৪ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার থাকতে হবে। আপনার যদি সারাদিনে দুই হাজার কিলোক্যলরি খাবার প্রয়োজন হয় তাহলে  ২৮ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে।


গমের রুটি, শস্য, শিম বরবটি, মটর বিভিন্ন ধরনের ডাল, শাকসবজি বিশেষত পাতা জাতীয় সবজি ও টাটকা ফলে যথেষ্ট আঁশ থাকে।


বিভিন্ন প্রকার শাক, তরি-তরকারি যেমন: আলু, পেঁপে, গাজর, কাঁচা ডাটা, সিম, বরবটি, লাউ, কুমড়া, এগুলোর বাইরের আবরণ মূলতঃ সেলুলোজ। এই সেলুলোজকে আঁশও বলা হয়। বিভিন্ন ফলের ছোবড়া, চাল, গম ইত্যাদির বাইরের অংশও সেলুলোজ । শাক-সবজি কাঁচা ও টাটকা খেলেই বেশী উপকার পাওয়া যায়। 

আলু, পটল, মূলা খোসা না ফেলে রান্না করাই উত্তম। আপেল খোসাসহ খাওয়াই ভালো। তুষের সেলুলোজ কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে বলে মেশিনে ছাঁটা চালের চাইতে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বেশি উপকারী। কাগজিলেবু, বাতাবিলেবু, কমলালেবু, টমেটো, আপেল এগুলোতে জৈব এসিড থাকে। এই এসিড অন্ত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মলত্যাগে সাহায্য করে। এইজন্য সকালে খালি পেটে এ ধরনের ফল বা ফলের রস খেলে কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয়।


শাকসবজি এবং ফল অনেক বেশি খেলে কারো কারো পেট ফাঁপা সমস্যা দেখা দেয় বা পেটে গ্যাস হয়। এজন্য শাকসবজি যখন খাওয়া শুরু করবেন তখন অল্প অল্প করে খাওয়া শুরু করবেন। 

ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হলে তখন বেশি খাবেন। হঠাৎ করে কখনো শাকসবজি বেশি খাওয়া শুরু করবেন না। তাহলে পেটের সমস্যায় পড়তে হবে।


যেসব খাবারে ফাইবার বা আঁশ কম আছে যেমন বিভিন্ন প্রসেসড ফুড এবং মাংস কম খেতে হবে। { পায়খানা ক্লিয়ার করার উপায় }


Related Post:


প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। যতটা সম্ভব কাজকর্মে একটিভ থাকতে হবে এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। নিত্যদিনের টেনশন ম্যানেজ করে রাখতে হবে। অনেক বেশি স্ট্রেস বা বিষণ্ণতা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দিতে পারে।


কখনো পায়খানার বেগ আসলে সেটা চাপিয়ে রাখা যাবে না। যখনই পায়খানার বেগ পাবে সাথে সাথে করে ফেলতে হবে। পায়খানা করার সময় পর্যাপ্ত টাইম নিয়ে করতে হবে। তাড়াহুড়া করে বাথরুম থেকে চলে আসা যাবে না। তাড়াহুড়া করে পায়খানা করলে পায়খানা ক্লিয়ার হবে না। সময় নিয়ে পায়খানা করতে হবে।


প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে পায়খানা করতে হবে। মনের মধ্যে একটা শিডিউল তৈরি করতে হবে। সেটা যদি বিশেষ করে একটা খাবারের পর হয় তাহলে ভালো।





Post a Comment

Previous Post Next Post